Featured

শীতে কোষ্ঠকাঠিন্য এর সমাধান।


 

শীতে কোষ্ঠকাঠিন্য এর সমাধান। 

নিচে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়কারী পাঁচটি প্রাকৃতিক খাবারের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো, যাতে আপনি বুঝতে পারেন কোন খাবার কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।


১) পেঁপে (Papaya)

পেঁপে হজমের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি ফল।

এতে থাকে পাপেইন (Papain) নামের একটি বিশেষ এনজাইম, যা খাবার দ্রুত ভেঙে হজম করতে সাহায্য করে।

উচ্চমাত্রায় ডায়েটারি ফাইবার থাকার কারণে অন্ত্রের গতি বাড়ায়।

মলকে নরম রাখায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়।


কিভাবে খাবেন?

সকালে নাস্তার সাথে ১ কাপ পেঁপে খেলে সবচেয়ে ভালো কাজ করে।

প্রতিদিন খেতে পারেন—কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

২) কিশমিশ বা ভেজানো কিশমিশ (Raisins)

কিশমিশে থাকে প্রাকৃতিক ল্যাক্সেটিভ উপাদান।

এতে থাকা সোরবিটল (Sorbitol) পানি শোষণ করে মলকে নরম করে।

কিশমিশে প্রচুর ফাইবার আছে, যা অন্ত্র পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।

ভিটামিন ও মিনারেল অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক রাখে।


কিভাবে খাবেন?

রাতে ৮–১০টি কিশমিশ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।

সকালে ভেজানো কিশমিশ এবং পানি দুটোই খেলে দ্রুত উপকার পাবেন।


৩) ইসবগুলের ভুসি (Psyllium Husk)

এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য সবচেয়ে দ্রুত কার্যকর প্রাকৃতিক উপায়

ইসবগুলের ভুসি পানি শোষণ করে জেল-এর মতো হয়ে যায়।

এই জেল মলকে নরম ও বড় করে, ফলে মলত্যাগ সহজ হয়।

অন্ত্রে লুব্রিকেশন তৈরি করে, তাই ব্যথাহীনভাবে মলত্যাগ হয়।


কিভাবে খাবেন?

রাতে ঘুমানোর আগে ১ গ্লাস হালকা গরম পানিতে ১ চামচ ইসবগুল মিশিয়ে খান।

খুব শুকনো অবস্থায় খাবেন না—তাহলে সমস্যা হতে পারে।

পানি বেশি পান করুন।


 ৪) ওটস (Oats)


ওটস হলো দীর্ঘমেয়াদে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার সেরা খাবারগুলোর একটি।


এতে থাকে সলিউবল ও ইনসলিউবল দুই ধরনের ফাইবার।

সলিউবল ফাইবার পানিতে জেল তৈরি করে মল নরম করে।

ইনসলিউবল ফাইবার অন্ত্রের গতি বাড়ায় এবং সহজে মল পরিষ্কার করে।

প্রতিদিন খাওয়া যায়, কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।



কিভাবে খাবেন?

সকালের নাস্তা + কলা + দুধ/পানি

চাইলে সামান্য মধু দিতে পারেন।



৫) পেয়ারা (বীজসহ) — Guava


পেয়ারা হলো সবচেয়ে সস্তা ও কার্যকর ফাইবার সমৃদ্ধ ফল


পেয়ারা ও এর বীজ—দুটিতেই প্রচুর ফাইবার আছে।

বীজসহ পেয়ারা খেলে অন্ত্রের গতি দ্রুত বাড়ে।

এর ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পেট পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে।


কিভাবে খাবেন?

প্রতিদিন দুপুরে বা বিকেলে ১টি মাপের পেয়ারা

বীজসহ খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়

যারা অতিরিক্ত অ্যাসিডিটি সমস্যায় ভোগেন, তারা খাবার পর খান।



অতিরিক্ত কিছু সহায়ক খাবার (Bonus Tips)


গরম পানি — সকালে খালি পেটে ১ গ্লাস

ঢেঁড়স — মিউসিলাজ থাকার কারণে মল নরম রাখে

সাদা দই — ভালো ব্যাকটেরিয়া হজম উন্নত করে

ডাবের পানি — শরীরে পানি ধরে রাখে, ডিহাইড্রেশন কমায়

চিয়া সিড — উচ্চ ফাইবার

মৌরি ও গরম পানি — হজম ভালো করে



ভালো ফল পেতে যা করবেন

দিনে ২–২.৫ লিটার পানি পান

প্রতিদিন অন্তত ২০–৩০ মিনিট হাঁটুন


অতিরিক্ত চা, কফি ও ফাস্টফুড কমিয়ে দিন


টয়লেটের চাপ দমন করবেন 

Comments

Popular Posts